No icon

৭ এপ্রিল থেকে ২য় ডোজ

যোদ্ধা ডেস্কঃ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্দেশনা আছে যে শিক্ষকদের ভ্যাকসিনেট করা। শিক্ষকরা তো বেশিরভাগই ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে আছেন, কাজেই তারা ভ্যাকসিন এমনিতেই পেয়ে যাবেন। আমরা শিক্ষকদের অগ্রাধিকারের সঙ্গে ভ্যাকসিন দিয়ে দেব। শিক্ষকদের বয়স ৪০ বছরের নিচে হলেও তাদেরকে আমরা বিবেচনায় নেব। শিক্ষকদের আহ্বান করব তারা যেন টিকা নিয়ে নেন।

গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং পুনঃনির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক সভা শেষে উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যেভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত আছে সেভাবে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের যারা ১৮ বছরের নিচে তাদেরকে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারব না। বয়স ১৮ বছরের ওপরে যারা আছে- এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত যা আসবে তা আমরা অনুসরণ করব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাইলটদেরকে আগে আগে ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে বলেছেন। ক্রু যারা আছেন, যারা বন্দরে কাজ করেন- সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর তাদেরকেও ভ্যাকসিন আগে দিয়ে দিতে বলেছেন। তারা তো ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার। তারা এমনিতেও আগে পাবেন। তাদের বয়সের কারণেও তারা আগে পাবেন। এ বিষয়গুলো আমলে নিয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিদেশে যেতে হলে ডাবল ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে যেতে হবে। যে দেশে যাবে সে দেশ তো দেখতে চাইবে যে সে ডাবল ডোজ নিয়েছে কিনা বা কতদিন আগে নিয়েছে। কাজেই এটা (করোনা নেগেটিভ সনদ) অবশ্যই লাগবে। তাকে বিদেশে ডাবল ডোজের সার্টিফিটেক নিয়ে যেতে হবে। ডাবল ডোজ নেয়ার পরও করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে। দুটোই লাগবে।

জাহিদ মালেক বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী করোনার প্রথম ডোজ গ্রহণের ৮ সপ্তাহ পর ২য় ডোজ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সারাদেশে ৭ ফেব্রুয়ারি একযোগে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ৭ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপি ২য় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

বর্তমানে দেশে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য ৩৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৫৯ জন মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একইসেেঙ্গ এ পর্যন্ত (২৭ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) দেশে মোট ২৩ লাখ ৮ হাজার ১৫৭ জন মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৫ জন এবং মহিলা ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪২ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ভ্যাকসিনের নতুন ডোজ প্রদানে বিশ্বের অনেক দেশই আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং সরকারের সাথে আলোচনা করছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পূর্বের ৭০ লাখ ভ্যাকসিনের পাশাপাশি গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় আরো নতুন ২০ লাখ ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। দেশে চলমান চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের শিক্ষক, বিমানের পাইলট, জাহাজের ক্রুসহ আরো অন্যান্য ফ্রন্টলাইনারদের ভ্যাকসিন প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলেও সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Comment