No icon

চট্টগ্রাম বন্দর: যন্ত্র সংগ্রহে রেকর্ডের বছর

চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ‘কী গ্যান্ট্রি ক্রেন’ কেনা হয়েছিল সর্বশেষ ২০০৬ সালে। বিগত ১১ বছরে ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি বাড়লেও গ্যান্ট্রি ক্রেন কিনতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এক হাজার ১২০ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালের জন্য ছয় ধরনের ৬১টি যন্ত্রপাতি কিনতে ২০১২ সালে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিগত পাঁচ বছরে একটি যন্ত্রও কিনতে পারেনি।

তবে ২০১৭ সালে রিভাইজড ডিপিপি তৈরির পর কাজে অনেকটা গতি আসে। গত একবছরে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ৪৫টি যন্ত্রপাতি বন্দরে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে। ২০১৭ সালে মোট ২৫১ ধরনের যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এসব যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানা গেছে, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনীহা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিরোধিতায় সঠিক সময়ে যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল দায়িত্ব নেওয়ার পর যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সক্ষমতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 

সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতি দ্রুত ক্রয় করতে না পারলে বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা সংশ্লিষ্ট মহলকে বোঝাতে সক্ষম হন। এতে গত এক বছরে বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে।  দ্রুত গতিতে যুক্ত হয়েছে অনেক যন্ত্রপাতিও। 

২০১৭ সালে বিপুল যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বন্দরের সক্ষমতা যত বাড়বে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও ততো বাড়বে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও এফবিসিসিআই পরিচালক মাহবুবুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ২০১৭ সালে যতগুলো যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তা গত কয়েক বছরেও সম্ভব হয়নি। এটি ইতিবাচক দিক। একুশ শতকের বন্দর গড়ে তুলতে এখন থেকেই কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নজমুল আলম বাংলানিউজকে জানান, ২০১৭ সালে ৯টি আরটিজি, একটি রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪০ টনের তিনটি স্ট্যাডাল ক্যারিয়ার, ২০ টনের ৪টি মোবাইল ক্রেন, চারটি রিচ স্টেকার, ২০ টনের দু’টি ও ১০ টনের ৮টি ফর্কলিফট, ৮৪ টনের একটি মোবাইল হারবার ক্রেন কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ডিপিপি তৈরির পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও অর্থমন্ত্রী যন্ত্রপাতির ক্রয় পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত দেওয়ার জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে বন্দরের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে উপায় না দেখে দ্রুত ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

২০১২ সালের ডিপিপি অনুযায়ী ১০টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন, ২০টি আরটিজি, একটি রেইল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরএমজি), ১০টি স্ট্যাডাল ক্যারিয়ার, সাত টনের ১০টি রিচ স্ট্যাকার ও ১০টি কন্টেইনার মুভার ক্রয়ে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটি যন্ত্রপাতিও কিনতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালের রিভাইজড ডিপিপি অনুযায়ী যন্ত্রপাতি কেনার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে জানিয়ে বন্দরের একজন কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে ৯টি আরটিজি বন্দরে এসেছে। ছয়টি আরটিজি কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। যা ২০১৮ সালে বন্দরে যুক্ত হবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বাংলানিউজকে বলেন, বন্দরের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০১৭ সালে ৫৪টি ভারি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।
 
তিনি জানান, আরটিজি ছাড়াও ৬টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনা হচ্ছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে বন্দরে আসবে। টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে আরও চারটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেনের।
 
সূত্র জানায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বন্দরে কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে তিন ধরনের ৩১টি যন্ত্র সংগ্রহ করা হয়। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১২৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ৩৩, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় ২৩, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ১৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ২০, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৫২ কোটি ২২ লাখ টাকায় ১৪, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় ৩৪, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৮৭ কোটি ৯১ লাখ টাকায় ৫৯ এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় ২৭ টি যন্ত্র কেনা হয়েছে।

 

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৫৪৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় ৩৬টি যন্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।    
 
বাংলাদেশ সময়: ০৩৫১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭
এমইউ/টিসি 

Comment