No icon

মেডিকেল বর্জ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি চমেক ‍হাসপাতালে!

চট্টগ্রাম: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত মেডিকেল বর্জ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। স্যালাইনের খালি ব্যাগ, প্লাস্টিকের সিরিঞ্জ, ওষুধের শিশি-বোতল, রোগীর গজ-ব্যান্ডেজ, রোগীর ছোট ছোট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ সাধারণ বর্জ্যের ভিড়ে কাড়াকাড়ি চলে টোকাই, কুকুর আর কাকের।

রোগীর রক্ত লেগে থাকা স্যালাইন সেট, সিরিঞ্জ কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন আজমল হোসেন। তিনি জানান, ৫-১২ টাকা কেজি দরে এসব জিনিস বিক্রি করেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে এ হাসপাতালের দু’টি ইনসিনারেটর মেশিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা মেশিনঘরটির বন্ধ তালায়ও মরিচা পড়ে গেছে। হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর এক কোণে বড় আকারের পাইপ লাগিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই পাইপের লোহার বেষ্টনীও খুব বেশি অক্ষত নেই। শুধু একটি প্রকল্পের সাক্ষী হয়ে আছে পাইপগুলো।    

চমেক হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা বাংলানিউজকে জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সেবা সংস্থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে মাসে ৮০ হাজার টাকা দিলেও কাজের কাজ খুব বেশি হচ্ছে না। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ৫-৬ ড্রাম বর্জ্য কাভার্ডভ্যানে তুলে নিয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। বাকি বর্জ্য অপসারণ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগ।  

এক হাজার ৩১৩ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি রোগী, ৬ হাজারের বেশি রোগীর স্বজন ও চিকিৎসক-সেবিকা-কর্মকর্তা-কর্মী মিলে ২০ হাজারের বেশি মানুষের ৭ টন বর্জ্য আসে খোলা ডাস্টবিনে। এর মধ্যে সংক্রামক, রাসায়নিক, তেজষ্ক্রিয়, প্যাথলজিক্যাল বর্জ্য, সিরিঞ্জ, ধারালো সরঞ্জাম ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যও মিশে থাকে। এগুলো পানি, খাবার, মাটি, বাতাস, পশু-পাখির মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক বি. জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা মেডিকেল বর্জ্য নিরাপদে অপসারণে চট্টগ্রাম সেবা সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা প্রতিদিন মেডিকেল বর্জ্যের ড্রাম নিয়ে যায়। তার পরও কিছু মেডিকেল বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে- এটি অস্বীকারের উপায় নেই। এটি বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনদের অবহেলা বা গাফিলতির কারণেই ঘটছে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ বর্জ্যের জন্য কালো বিন, সংক্রামক বর্জ্যের জন্য হলুদ, ধারালো বর্জ্যের জন্য লাল 

কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বলেন, ‘সকাল-সন্ধ্যা দুই দফা চমেক হাসপাতাল থেকে মেডিকেল বর্জ্য ভর্তি ড্রাম আমরা কাভার্ডভ্যানে হালিশহরে সিটি কর্পোরেশনের টিজির নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে চমেক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে অনেক সময় আমরা সাধারণ বর্জ্যও অপসারণ করে থাকি। আমাদের নতুন কিছু কাভার্ডভ্যান কেনা এবং জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে’।  

 

বাংলাদেশ সময়: ০৩০৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০০, ২০১৭
এআর/টিসি/এএসআর   

Comment