No icon

দিনাজপুরের সেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইলের তৃতীয় স্ত্রী মর্জিনার সাংবাদিক সম্মেলন- স্বামীকে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সন্মান থেকে বঞ্চিত করায় বিচার দাবী

 আব্দুস সাত্তার।।  দিনাজপুরের সেই বহুল আলোচিত মরহুম মুক্তিযোদ্ধা কতৃক হুইপ ইকবালুর রহিম বরাবরে লেখা ইসমাইলের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গ্রহন না করার ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় হওয়ার কয়েকদিন পর মুখ খুলেছেন তার তৃতীয় স্ত্রী মর্জিনা বেগম। 
 ৪ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় বোচাগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোতে এক জনাকীর্ন সাংবাদিক সম্মেলনে নিরক্ষর মা মর্জিনাকে পাশে রেখে বড় ছেলে সেতাবগঞ্জ কামিল মাদরাসার দশম শ্রেনীর ছাত্র মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন মৃদুল তার মায়ের লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে পাঠ করেন।  লিখিত বক্তব্যে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন মর্জিনার সাথে বিবাহের পর হতে প্রায় ২৫ বছর যাবত বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাষ্টার পাড়ায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছেন এবং তিনি এই এলাকার ভোটারও। তিনি সুস্থ্য থাকা কালীন অবস্থায় গণবীমা কোম্পানীতে চাকুরী করতেন পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার ভাতায় সংসার চলতো। গত ২১ অক্টোবর তিনি খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে আমরা প্রথমে বোচাগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাই পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানে থেকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এসময় আমি ও আমার দুই সন্তান তার নিয়মিত সেবা যত্ন করতে থাকি।  গত ২৩ অক্টোবর মৃত্যুর সময় আমারই কোলে মাথা রেখে আমার স্বামী মৃত্যু বরন করেন।  মৃত্যুর পর আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে তার প্রথম স্ত্রীর সন্তানদ্বয় এক প্রকার জোর করেই আমার স্বামী মৃতদেহকে হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রামের বাড়ী দিনাজপুর সদর উপজেলার জুগিবাড়ীতে নিয়ে যায়।  জীবদ্দশায় তিনি অহংকার করে বলতেন আমার মৃত্যুর পরে কফিনে জাতীয় পতাকা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্মান প্রদর্শন করে দাফন করা হবে।  সেই ব্যক্তি কিভাবে চিঠি লেখে রাষ্ট্রীয় সন্মান নিতে অস্বীকার করেন তা আমার বোধগম্য নয়। জেলা প্রসাশন আমার স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সন্মান হতে বঞ্চিত করেছে।  তিনি অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল এতটাই শারিরীক অসুস্থ ছিলেন যে তিনি জীবন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলেন সেখানে তার চিঠি লেখার স্মৃতি শক্তি ছিল না।  যে চিঠি নিয়ে (বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত যে চিঠিটি প্রদানের বিষয়ে হুইপ ইকবালুর রহিম বরাবরে উল্লেখ করা হয়েছে) সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে খবরের কাগজ ও টেলিভিশনে তোলপাড় হচ্ছে তা সত্য নয়।  এটাকে যে কেউ অসৎ উদ্দ্যেশে নিজহীন স্বার্থ হাসিলের জন্য করে থাকতে পারে। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিচার চাই।  তিনি বলেন, দিনাজপুরের প্রথম স্ত্রীর বাড়ীতে মৃত্যু পরবর্তীতে দোয়া খায়ের অনুষ্ঠানে আমারা সেখানে যাই ঐ দিন দিনাজপুর সদরের এমপি ও হুইপ ইকবালুর রহিম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক সহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন,  কিন্তুু বড় পক্ষের সন্তানেরা আমাদেরকে তাদের ঘরে এক প্রকার আটক রেখে বলে যে, আপনাদের ডাকা হলে আসবেন, না ডাকা হলে হুইপ সাহেব অথবা ডিসি সাহেবের নিকট যাবেন না বা কোন কথা বলবেন না। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি দুই সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাকে দেখার কেউ নেই কিংবা আমার কেউ খোঁজ খবর নিতেও আসে নাই। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন করছি আমি ও আমার দুই শিশু সন্তানকে যেন মুক্তিযোদ্ধার সন্মানী ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। এসময় ছোট ছেলে সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মিম হোসেন, মর্জিনার পিতা মোঃ সাজেদুর রহমান, বাড়ীর মালিক মোছাঃ রহিমা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

Comment

A PHP Error was encountered

Severity: Core Warning

Message: PHP Startup: Unable to load dynamic library '/opt/cpanel/ea-php56/root/usr/lib64/php/modules/imagick.so' - libMagickWand.so.5: cannot open shared object file: No such file or directory

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: