No icon

বোচাগঞ্জে বৃষ্টি ও উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে ধান ও ভুট্টা

*ধান কাটা নিয়ে দুঃচিন্তায় কৃষক
* ৯০ হেষ্টর ধান পানির নিচে পড়ে আছে
* ধানের চেয়ে ভুট্টার ক্ষতি বেশি।

ফরিদ আহমেদ, বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি\
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানিতে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় জমির পাকা ধান ও ভুট্টা ডুবে গেছে। এতে কৃষকরা চরম দুঃচিন্তায় ভুগছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ১টি পৌর এলাকা ও ৬ টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৮শ ৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। অর্জিত  হয়েছে ৮ হাজার ৪শ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পাকা ধান ৯০ হেক্টর ধান পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ১৫শ ৫ হেষ্টর। অর্জিত হয়েছে ১৪শ ৭৫ হেষ্টর। পানিতে ডুবে গেছে ৩৫০ হেষ্টর। ধানের চেয়ে ভুট্টার বেশী ক্ষতি হয়েছে।

গত এক সপ্তাহের বৃষ্টির প্রভাবে উপজেলার মাঠের অধিকাংশ কৃষকের বোরো ধান পানিতে ডুবে একাকার হয়ে গেছে। এ যেন কৃষকের মাথায় হাত দেয়ার মত অবস্থা। অনেকের পাকা ধান কোমর পানিতে ডুবে রয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে এসব ধান,ভুটা পানিতে ডুবে যায়। বৃষ্টির  পানিতে পাকা ধানের শীষ এখন সেই পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠের পাকা বোরোধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। শুধু তাই নয়, অনেক মাছ চাষীর পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়রের নাফানগর, টেনা, ছেনিহারী,পুটকিবাড়ী, ২ নম্বর ইশানিয়া ইউনিয়রের খানপুর, জিনর, বাড়েয়া, বর্থ, দকচাই, ৩ মুশিদহাট নম্বর ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুর, জালগাঁও, কড়ই, ৪ নম্বর আটগাও ইউনিয়নের বাজনিয়া, হাটমাধবপুর, আলমপুর, দৌলা, কাকদুয়ার, ৫নম্বর ছাতইল ইউনিয়নের কোদালকাটি, সুকদেবপুর, পরমেশ্বরপুর, কুকুরাডাঙ্গি, নাড়ইল, ৬ নম্বর রনগাও ইউনিয়নের ধনঞ্জয়জুর, বাসুদেবপুর, গোবিন্দপুর, বনগাঁও সহ পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি এলাকার  কৃষকের ধান ও ভুট্টা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। স্থানীয় কয়েক জনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান তাদের দুশ্চিন্তার কথা।

৪ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের কাকদুয়ার গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে  ২ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। জানিনা ধানের কি দষা হবে। ধানগুলো কাটতে পারবো কি পারবোনা এই নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি।

একই ইউনিয়নের বরগাঁ গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, আমার জমিতে এখনো ৩ বিঘা পাকা ধান কাঁটার  বাকী আছে। পানিতে ধান ডুবে থাকার কারনে ধান কাঁটতে পারছিনা।

৩ নম্বর মুশিদহাট ইউনিয়নের পূর্ব বর্ষা গ্রামের হেমন্ত কুমার জানায়, আমার ৮ বিঘা  জমির ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। দ্রæত পানি না কমলে জমির ধান কাঁটা সম্ভন হবে না। একই ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মাসুদ জানান, তার ৩ বিঘা জমির ধান এখনো পানিরে নিচে।
২নং ইশানিয়া ইউনিয়নের দকচাই গ্রামের আবুল কালাম আযাদ জানান, আমার ২ বিঘা জমির ধান পানির নিচে। তার পক্ষে ধান কাঁটা সম্ভন নয়।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উঠতি ফসল ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এছাড়া অসংখ্য পুকুর পানিতে ডুবে যাওয়ায় পানির ¯্রােতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।   

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় জানান , টানা  কয়েক দিনের বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমির বোরো ধান ও ৩৫০ হেষ্টর ভুট্টা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। তবে দুই-একদিনের মধ্যে পানি শুকিয়ে গেলে  ধান, ভুটা কাটতে পারলে কৃষকের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

এদিকে গত ২৬ জুন শুক্রবার বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আফছার আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ  মুনসুর আলী সহ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলার ১নং নাফানগর, ২নং ইশানিয়া, ৪নং আটগাঁও, ৫নং ছাতইল ও ৬নং রনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন পানি বন্দি এলাকা পরিদর্শন করেন।

Comment