No icon

বোচাগঞ্জে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৩০ জন পরিব

কোনদি ধারণা করিবা পারি নাই আমরা পাঁকা ঘরে থাকব

যোদ্ধা ডেস্কঃ ॥ মানসিক প্রতিবন্ধী প্রনতী রানী । বয়স ৩০।একজন ক্ষুদ্র - নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষ। ছোটবেলায় বাবা- মাকে হারিয়েছেন। এই পৃথিবীতে একমাত্র ভাবী তার অভিবাবক। সেই ছোট বেলায় থেকে তাকে বড় করে তুলেছে। মানসিক রোগী হওয়া সত্বে নিজের মেয়ের মত বড় করে তুলেছেন। কখনো বুঝতে দেয়নি বাবা মা’র অভাব। প্রনতী রানীর ভাবির সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে। এই পৃথিবীকে বেঁচে থাকতে হলে মানুষের কিছু মৌলিক চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান বা বাড়ী। বেঁচে থাকার জন্য ছোট একটি ঘর বেঁধে থাকতেন। সেই ঘরে কেটেছে তাদের অনেক কষ্টের দিন। একটু ঝড় বৃষ্টি এলে তাদের বুক ভয়ে কেঁপে উঠতো। এই বুঝি তাদের ঘরের উপরে থাকা নিম্ন মানের টীন বাতাসে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় রাতের আধারে ঝড়ের সময় তাদের ঘরে টিন বাতাসে নিয়ে চলে গেছে। ঝড়ের রাতে তারা কোথায় যাবে ভেবে পায় না। কখন সকাল হবে। এই অপেক্ষার প্রহর গুনত। সকাল হলে বাতাসে নিয়ে যাওয়া টিন  কুঁড়িয়ে  আবার ঘরের ছাওনী দিবে। এইভাবেই কেটেছে তাদের অনেকটা জীবন।
এমনি বলছি দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের  সাদামহল গ্রামের ক্ষুদ্র - নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর পল্লীতে বসবাস করা  মানসিক প্রতিবন্ধী প্রনতী রানীর পরিবারে কথা। সেই ঘরের কষ্টের জীবন লাগোব হতে চলেছে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের  মধ্যে  তার একটি স্বপ্নের সেমি পাঁকা  ঘর পেতে যাচ্ছেন।

প্রনতী রানী ভাবি রত কিসু বলেন, আমার এখানে এইখানে ইউএনও এসে বলল। আপনাদের জন্য ঘর দেওয়া হবে। আমি শুনে খুবেই খুশি লাগছে। কোনদি ধারণা করিবা পারি নাই। আমরা পাঁকা ঘরে থাকব। এই পাকা ঘরে আমরা দুইজনে থাকব। আমাদের খুবেই কষ্ট গেছে। বেটার খাওয়া । কিন্তু বেটাদের বউ হওয়াতে এলা কি এখন খাওয়াবে। আমার স্বামী অনেক বছর আগে মারা গেছে। প্রনতী রানীর বাবা মা ভাই কেউ নাই। বাবা মা সবাই মারা গেছে। ওকে কি আমি ফেলে দিবো। আমি ছোটকাল থেকে মানুষ করেছি। ওর খুব অসুখ। মাসে দুই তিনবার বিছানায় পড়ে থাকে। আগের ভাঙ্গা ঘরের সম্পর্কে বলেন,আমরা বাড়ী খুব ভাঙ্গা ছিল। পানির সময় থাকতে পারছিনা। মনে মনে খুবেই কাঁদি। ঘর ভেঙ্গে গেলে কিভাবে উঠাবো। এটা আমি সত্য কথা বলছি।

বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ছয় ইউনিয়নের ৪৩০ টি গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। বয়স্ক ৪৪ জন, দিনমজুর ২৩৫ জন, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ৩ জন, বিধবা ৩০ জন, প্রতিবন্ধী ১২ জন, ভিক্ষুক ২৭ জন, ক্ষুদ্র - নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ৭৮ জন এবং  তৃতীয়লিঙ্গ ১ জন সর্বমোট ৪৩০ জন পরিবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই হবে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছন্দা পাল জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীদের গৃহ দিচ্ছেন। প্রকৃত অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের খুঁজে তালিকা করা হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগীদের গৃহ হস্তান্তর করবেন।  

 

Comment