No icon

মাতারবাড়ী কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যোদ্ধা ডেস্কঃ মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি আলাদা অথরিটি করতে হবে। যাতে সব সংস্থা যার যার মতো করে কাজ করবে, এতে বাধা নেই। তবে সবগুলো সংস্থাকে তদারকি করতে পারে এই কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। গণভবন থেকে এতে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিং এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশীদ এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম প্রমুখ। ড. শামসুল আলম জানান, মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশ দিয়েছে। বফ্রিং এ পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা বেগম জানান, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় গভীর সমুদ্র বন্দরসহ ৩৭টি এলাকায় বাস্তবায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অন্য নির্দেশনার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, হাওর অঞ্চলে এলিভেটেড রাস্তা করতে গিয়ে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব সড়ক নির্মাণে তার নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সরকারের সেবাসমূহকে ই-সেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেয়া এবং সব ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। এজন্য ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়ন করবে ২ হাজার ৫০৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাকী ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ প্রদান করবে চীন সরকার। ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৪টি ব্রডব্যান্ড ইউজার কানেক্টিভিটি স্থাপন, ১০ হাজারটি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব, সেন্ট্রাল ক্লাউড প্লাটফর্ম এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপন, জেলা ও উপজেলা কমপ্লেক্সে আইটি অবকাঠামোসহ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, নেটওয়ার্ক অপারেশন্স সেন্টার, প্রশিক্ষণ, ৫৫৫টি ডিজিটাল সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার, মাঠ পর্যায়ের ক্লাউড ফাইল সার্ভিস এবং ডিজিটাল স্টোরেজের জন্য কেন্দ্রীয় সার্ভার অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। আইসিটি ল্যাব, স্মার্ট ভার্চুয়াল ক্লাসরুম এবং ডিসটেন্স লার্নিং প্ল্যাটফর্মসহ প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো সুবিধা সম্বলিত একটি ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন করা হবে। মাঠ পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০টি এনরোলমেন্ট অবকাঠামো স্থাপন এবং ১৭ হাজার ৩১৪টি সার্ভিস ডেলিভারি ডিভাইস বিতরণ, ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্টেশন, ৪৯২টি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ, ২০ হাজার কৃষককে স্মার্ট সেন্সর ডিভাইস প্রদান, জীপ-মাইক্রোবাস-পিকআপ কেনা, কারিগরি পরামর্শক, কম্পিউটার এক্সেসরিজ ও সফটওয়্যার, ফার্নিচার সংগ্রহ, দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে থেকে ১৮ হাজার ৯৩২ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, হাওর অঞ্চল দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এখন আওয়ামীলীগ সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া চিনের ঋণে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মাতারবাড়ি বন্দর হওয়ার কারনে মাতার বাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এই বন্দরটি চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলনে উজ্জল নেতৃত্ব দেয়া এবং ডিজিটাল উন্নয়নে পুরুস্কার অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুত্র ডিজিটাল ক্ষেত্রে পুরুস্কার লাভ করায় একনেকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে, অবকাঠামোগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণ প্রকল্প। এছাড়া আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। ইস্টাবিলিশমেন্ট ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্প। রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২ প্রকল্প। সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প। হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। খুলনা জেলার পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন প্রকল্প। দূর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব। ব্রিফিং এ জানানো হয়, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল ব্যয় হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এখন গভীর সমুদ্রবন্দরসহ অন্যান্য কার্যক্রম যোগ কওে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় করা হয়েছে ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮লাখ টাকা। সভায় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভায় অংশ নেন। এ ছাড়াও, সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি’র মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে একনেক বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন ডলার। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিবিএসের জিডিপির হিসাব তৈরির নতুন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন। এতেই অর্থনীতির এই আকার উঠে এসেছে। তিনি বলেন, বিবিএস আগে ২০০৫-০৬ সালকে ভিত্তিবছর ধরে জিডিপির হিসাব করত। কিন্তু নতুন হিসাব করা হয়েছে ২০১৫-১৬ কে ভিত্তিবছর ধরে। এই সময়ে অর্থনীতিতে নতুন নতুন ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এ কারণে অর্থনীতির আকার বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নতুন হিসেবে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২৫৫৪ ডলার। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। টাকার অংকে ২৭ হাজার ৯৩৯ বিলিয়ন টাকা। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ওই সময় টাকার অংকে ছিল ২৬ হাজার ৫০১ বিলিয়ন টাকা।তিনি বলেন, কোভিডের কারণে অনেক দেশ নাজুক অবস্থায় গেলেও, বাংলাদেশের সাড়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নতুন ভিত্তি বছর ধরায় জিডিপি হিসাবে বিভিন্ন পণ্যের জাল বিস্তৃত হয়েছে। ফলে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আগে ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর ধরে হসাব করা হতো জিডিপি প্রবৃদ্ধির। বিবিএসের হিসাবে বলা হয়েছে, ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছর হিসাবে ২০২০-২১ অথবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাথমিক হিসাবে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ সময় টাকার অংকে জিডিপি হয়েছে ১২ হাজার ৭২ বিলিয়ন টাকা। নতুন ভিত্তিবছর অনুযায়ী দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪ মার্কিন ডলার। টাকার অংকে যা ২ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৯ টাকা। পুরনো ভিত্তি বছর (২০০৫-০৬) অনুযায়ী মাথাপিছু আয় দাড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ ডলার, যা টাকার অংকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। ২০১৫-১৬ ভিত্তিবছর ধরায় তিন খাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। যেমনÑ কৃষি খাত ঃ জিডিপি নিরুপণের জন্য এর আগে এ খাতের অর্ন্তভুক্ত সব তথ্যের সঙ্গে শস্য উপখাতে প্রায় ২০টি নতুন ফসল যোগ হয়েছে। ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, লটকন, কচুশাক, শরুফা, মাল্টা ইত্যাদি যোগ হয়েছে। গবাদি পশু ও হাঁস মুরগরি মাংসের উৎপাদন তথ্য, বন খাতে নতুন জরিপ তথ্য সহ অন্যান্য হালনাগাদ তথ্য অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। সার্বিকভাবে চলতি মূল্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে মূল্য সংযোজনের আকার ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাত ঃ এরআগে জিডিপি নিরুপনের জন্য এ খাতের অর্ন্তভুক্ত সকল তথ্যের সঙ্গে নতুন উৎপাদন শিল্প প্রতিষ্ঠান জরিপ (এসএমআই) ও নির্মাণ খাত জরিপের হালনাগাদ তথ্য, বাড়ী থেকে ময়লা বর্জ্য সংগ্রহের তথ্য অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। সার্বিকভাবে চলতি মূল্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিল্প খাতে মূল্য সংযোজোনের আকার ৩৬ দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা খাত ঃ জিডিপি নিরুপনের জন্য এর আগে এ খাতের অর্ন্তভুক্ত সব তথ্যের সঙ্গে পরিবহন খাতের নতুন জরিপ, উবার, পাঠাও, নতুন বেসরকারি হেলিকপ্টার সংস্থার তথ্য, রিয়েল এস্টেট খাতের নতুন জরিপ, মোবাইল ব্যাংক, এজেন্ট ব্যাংক, সরকারের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের হালনাগাদ তথ্য নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সার্বিকভাবে চলতি মূল্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেবা খাতে মূল্য সংযোজনের আকার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Comment